সেই নূপুর আইসক্রিম খাচ্ছে, খাওয়াচ্ছে

হার্টে অস্ত্রোপচারের ঠিক দু’দিন পর ১২ বছরের কিশোরী নূপুর আক্তার আইসক্রিম খেলো, খাইয়ে দিলো তার চিকিৎসকদের। ওপেন হার্ট সার্জারির ৪৮ ঘণ্টা পর এমন দৃশ্য খুবই বিরল। কেবল নূপুর আর তার চিকিৎসক নন, হৃদরোগ হাসপাতালের আইসিইউতে ( নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) থাকা চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই আইসক্রিম খেয়েছেন নূপুরের কল্যাণে। আর এটা হয়েছে হৃদরোগ হাসপাতালে। সোর্সঃ বাংলা ট্রিবিউন ২৭ আগস্ট, ২০১৯

সেই নূপুর আইসক্রিম খাচ্ছে, খাওয়াচ্ছে

November 13, 2020 by Team Asraf Sium
bangla-tribune.jpg

হার্টে অস্ত্রোপচারের ঠিক দু’দিন পর ১২ বছরের কিশোরী নূপুর আক্তার আইসক্রিম খেলো, খাইয়ে দিলো তার চিকিৎসকদের। ওপেন হার্ট সার্জারির ৪৮ ঘণ্টা পর এমন দৃশ্য খুবই বিরল। কেবল নূপুর আর তার চিকিৎসক নন, হৃদরোগ হাসপাতালের আইসিইউতে ( নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) থাকা চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই আইসক্রিম খেয়েছেন নূপুরের কল্যাণে। আর এটা হয়েছে হৃদরোগ হাসপাতালে।

 

গত রবিবার ( ২৫ আগস্ট) পাবনার সুজানগরের মীজানুর রহমানের মেয়ে নূপুর আক্তারের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। কিন্তু সেটা দেশের চলমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। দেশের ইতিহাসে সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো করা এমআইসিএস ( মিনিমালি ইনভাসিব কার্ডিয়াক সার্জারি) পদ্ধতিতে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এ পদ্ধতিতে পুরো বুক ফাঁক না করে, পাঁজরের হাড় না কেটে মাত্র দুই ইঞ্চি ছিদ্র করা হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হওয়া এই এমআইসিএস’র নেতৃত্ব দেন সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক সার্জন ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম।

 

এ সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর আজ ( ২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালে নূপুরকে দেখতে যান, তার সঙ্গে কথা বলেন।

আগামীকাল বুধবার ( ২৮ আগস্ট) নূপুর আক্তারকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে জানিয়ে ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুপুরের দিকে সে (নূপুর) আইসক্রিম খেতে চাইলো হঠাৎ করেই। তারপর আমি তাকে আইসক্রিম কিনে দিলাম। আর কেবল নূপুর নয়, ওর সৌজন্যে আজ আইসিইউতে থাকা সবাই একরকম উৎসব করে আইসক্রিম খেয়েছেন।

ডা. সিয়াম বলেন, নূপুরকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের আজকেই ছিল। কিন্তু ওর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলো আর একটা দিন রাখার জন্য। সে হিসেবে আগামীকাল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

 

ওপেন হার্ট সার্জারির পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় রোগী বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত—এটাই এমআইসিএস’র সফলতা, যদিও নূপুর যাচ্ছে ৭২ ঘণ্টা পরে। তবে এতদিন পর্যন্ত অন্য পদ্ধতিতে হার্টের অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হতো চিকিৎসকদের।

নূপুর একদম সুস্থ মন্তব্য করে ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম বলেন, নূপুর আইসিইউ বেডে শুয়ে বসে মোবাইলে গেমসে খেলছে, সবার সঙ্গে কথা বলছে, হাসছে, স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে। ওকে নিয়ে আমাদের জটিলতা হয়নি, আমরা চিকিৎসক হিসেবে ভীষণ খুশি।

তিনি আরও বলেন, এটাই হচ্ছে এমআইসিএস’র সাফল্য। তবে কিছু দিন তাকে ফলোআপে রাখা হবে। সাত দিন পরে ওকে আবার আসতে হবে। এরপর দেখবো ১৫ দিন পর, তারপর ৩ মাস পর। এরপর আর ওকে দেখার প্রয়োজন হবে না, সে একদম সুস্থ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নূপুরকে দেখে খুব খুশি হয়েছেন জানিয়ে ডা. সিয়াম বলেন, ‘নূপুরকে দেখে মনেই হয়নি সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছে, খুব হাসি-খুশি, খুব স্বাভাবিক ছিল সে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তার ব্যথা আছে কীনা, সে মাথা দুলিয়ে নেই বলে জানিয়েছে। বাড়ি কোথায়, কোন ক্লাসে পড়ে—এসব প্রশ্নের উত্তরও সে খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিয়েছে।’

Source: BanglaTribune


24/7 EMERGENCY NUMBER (+880 1720-834878)

Call us now if you are in a medical emergency need, we will reply swiftly and provide you with a medical aid.


All Right Researved by Team Asraful Sium