পাঁজরের হাড় না কেটেও হার্টের অপারেশন!

ডা. আশরাফুল হক সিয়াম সারাবাংলাকে বলেন, তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস)। সোর্সঃ সারা বাংলা আগস্ট ২৫, ২০১৯

পাঁজরের হাড় না কেটেও হার্টের অপারেশন!

November 13, 2020 by Team Asraf Sium
sarabangla1.jpg

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের কোনো সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো বুকের হাড় না কেটে সফলভাবে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম হয়েছেন চিকিৎসকরা। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) ডা. আশরাফুল হক সিয়ামের নেতৃত্বে একটি দল সফলভাবে ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর হৃদযন্ত্রে এই অস্ত্রোপচার করেছেন।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় এই অস্ত্রোপচারটি শুরু করা হয়। এটি শেষ হতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

ডা. আশরাফুল হক সিয়াম সারাবাংলাকে বলেন, তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস)। এই পদ্ধতিতে বুক না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। এই প্রথম বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে কোনো সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করা হলো।

এই চিকিৎসা পদ্ধতির ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. সিয়াম বলেন, হৃদরোগের যেকোনো অপারেশনই ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ বা ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসাপদ্ধতি বা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি থেকে এমআইসিএস পদ্ধতিতে ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ তুলনামূলক কম থাকে। কারণ রক্তক্ষরণ কম হয়, অন্যান্য সংক্রমনের আশঙ্কাও তেমন থাকে না। একইসঙ্গে এই পদ্ধতিতে রোগী খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে পারেন অস্ত্রোপচারের পরদিনই। সবচেয়ে বড় কথা, এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারে রোগীর আতঙ্ক ও প্রাণের ঝুঁকি— দু’টিই কমে আসে। সময় এবং খরচও অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় কম।

ডা. সিয়াম আরও বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত কিছু দেশের অল্পসংখ্যক হাসপাতালে এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এখনো এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয় না। কিছু হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে হলেও সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো আমরাই এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপাচার করলাম। এটি সরকারি খাতের একটি বিশাল সফলতা বলে আমরা মনে করি।’

অস্ত্রোপচার বিষয়ে ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় প্রচলিত যে পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে, তাকে বলে ‘কনভেনশনাল হার্ট সার্জারি’। ওই পদ্ধতিতে বুকের মাঝখান বরাবর কেটে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু এমআইসিএস পদ্ধতিতে এর প্রয়োজন হয় না। একে হৃদযন্ত্রের ল্যাপরোস্কোপি বলা যেতে পারে। খুব অল্পসংখ্যক সার্জনই এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করে থাকেন।

এর আগে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে কয়েকজন হৃদরোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে কোনো সরকারি হাসপাতালে এই প্রথম এ ধরনের অস্ত্রোপচার হলো।

বয়স বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে যেসব রোগীর জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়, এই পদ্ধতিতে সেসব রোগীকেও অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এতে তাদের অস্ত্রোপচারে ঝুঁকিও কম থাকে।

Source: Sarabangla


24/7 EMERGENCY NUMBER (+880 1720-834878)

Call us now if you are in a medical emergency need, we will reply swiftly and provide you with a medical aid.


All Right Researved by Team Asraful Sium